সাভারের বিতর্কিত মধুমতি মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প উচ্ছেদে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। মেট্রো মেকার্স গ্রুপের স্বত্বাধিকারাধীন এই প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘নান্দনিক হাউসিং’ করা হলেও আদালতের রায় অনুযায়ী তা অবৈধ।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাজউক মিলনায়তনে এক আন্তঃসংস্থা সমন্বয় সভায় উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উচ্ছেদ অভিযানে একমত পোষণ করেন।
মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পটি সাভারের বিলামালিয়া ও বালিয়ারপুর মৌজায় বন্যাপ্রবণ এলাকা ও জলাভূমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়। উচ্চ আদালত ২০১৯ সালে এই প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং জমির আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন।
পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রিটের প্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দেন, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। বেলার পক্ষ থেকে রাজউককে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করার জন্য উকিল নোটিশ দেওয়া হলে রাজউক এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) মো. আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানিয়েছেন, উচ্ছেদ অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সার্বিক সহায়তা করবে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মধুমতি মডেল টাউনে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার উচ্ছেদ বন্ধের জন্য আন্দোলন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও রাজউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মৌজায় সব ধরনের নামজারি ও খাজনা আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজউক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জলাভূমি পুনরুদ্ধারে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
0 মন্তব্যসমূহ